চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় স্বাধীন (২৫) ও সাব্বির হোসেন (২৫) নামের দুই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় ঋণের চাপে বিষপান এবং অপরটিতে পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ছেংগারচর পৌরসভার মুল্লুক মাঝিরকান্দি গ্রামের ছলু সরকারের ছেলে স্বাধীন (২৫) অতিরিক্ত ঋণের চাপে সবার অজান্তে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে গিয়ে বিষজাতীয় ট্যাবলেট সেবন করেন। অসুস্থ হওয়ার পর তিনি ভয়েস কলের মাধ্যমে তার বন্ধু আশরাফুলকে বিষয়টি জানিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।খবর পেয়ে বন্ধু আশরাফুল ও সৈকত দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী আয়েশা, বাবা ছলু সরকারসহ পরিবারের অন্যান্য স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ নেই। তারা বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের জন্য আবেদন করেছেন।অপরদিকে, একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দিগলীপাড় পার প্রধান বাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি আমগাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাব্বির হোসেন (২৫) নামের অপর এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ এবং স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছিলেন সাব্বির। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই অভিমান ও হতাশা থেকেই তিনি এই পথ বেছে নেন।
ঘটনা দুটির বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উভয় ঘটনাই আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে। মানসিক সংকট এড়াতে তিনি হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি জীবনকে মূল্যবান হিসেবে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।
