শেষ বাঁশি বেজেছে কয়েক দিন আগে। বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেন, আর রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরেছেন লিওনেল মেসিরা। কিন্তু মাঠের ফল এখনো মেনে নিতে পারছেন না আর্জেন্টিনার একাংশ সমর্থক।
সেই ক্ষোভ এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে রূপ নিয়েছে অনলাইন আন্দোলনে। তাদের দাবি, স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল আবার আয়োজন করতে হবে। দাবির সমর্থনে চেঞ্জ ডট অর্গে খোলা একটি আবেদনে এরই মধ্যে ৬১ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
আবেদনটি চালু করেছেন আর্জেন্টাইন সমর্থক জিসেলা সানচেজ। তার অভিযোগ, ফাইনালে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে। সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করে ফাইনালটি পুনরায় আয়োজনের জন্য ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অনিয়মের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেননি জিসেলা। ঠিক কোন সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি কীভাবে ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে, আবেদনে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও নেই।
গত রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।

ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। শেষ দিকে উত্তেজনাও বেড়ে যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে ম্যাচের ফল বাতিল করার মতো কোনো অনিয়মের প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।
তা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনার পরাজয়ের কয়েক দিনের মধ্যে আবেদনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাক্ষরের সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া দেখাচ্ছে, ফাইনালের ফল ও রেফারিং নিয়ে সমর্থকদের একটি অংশের ক্ষোভ এখনো কমেনি।
এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের দাবিতে এটিই প্রথম অনলাইন আবেদন নয়। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ফ্রান্সের পরাজয়ের পরও একই ধরনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন ফরাসি সমর্থকেরা।
সেই ম্যাচে স্পেনের প্রথম গোলের পেনাল্টির আগে রেফারির ভুল হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়। সেমিফাইনালটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে করা আবেদনে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন।
