মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের ৬ (শিবপুর) নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম মিজ্জাক এর বিরুদ্ধে রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম, ভাতা বণ্টনে দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিম্নমানের (৩ নম্বর) ইট ব্যবহার করে তা ১ নম্বর ইট হিসেবে দেখিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়-ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, নির্মিত রাস্তার অধিকাংশ অংশেই ২ ও ৩ নম্বরের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বালির মান নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া রাস্তার সোলডারে কোথাও মাটি দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে অফিসে ফিরে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে কাজ পুনরায় সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নোটিশ প্রদানের ২ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং ইউপি সদস্য পাশের বাড়ির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলীকে দিয়ে সোলডারের মাটি ভরাটের কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ ও শাস্তির আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, একই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুনকে পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) করে চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ৩০ মিটার কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রেহানা খাতুন বলেন, কাগজপত্র তার নামে হলেও প্রকৃতপক্ষে কাজের তদারকি ও বিল উত্তোলনের বিষয়টি রবিউল ইসলাম (মিজ্জাক) পরিচালনা করেছেন। কাজ শেষে তাকে ২০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় তৎকালীন প্রশাসক রাকিব উদ্দিনও স্বীকার করেন যে, পিআইসি রেহানা খাতুন হলেও প্রকৃতপক্ষে জোর করে কাজটি পরিচালনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য।
এছাড়াও গর্ভকালীন ভাতা বণ্টনেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। খুকুমণি নামে এক ভাতাভোগীর বিকাশ নম্বর হিসেবে ইউপি সদস্যের স্ত্রী রেক্সোনা পারভীনের ব্যবহৃত নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খুকুমণির স্বামী সেলিমের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রেক্সোনা পারভীন বলেন, নম্বরটি তার হলেও শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করেন, পরে স্বীকার করে বলেন “মাইন্ড কইরেন না”।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা নিজের দায় স্বীকার না করে বলেন, এটি সিস্টেমজনিত সমস্যা হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এসব অভিযোগই নয়—আত্মীয়-স্বজনদের জন্য টিন বরাদ্দ, শ্রমিকদের পাওনা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এমনকি জেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় ভোট সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জেরে একাধিকবার তিনি জনরোষের শিকার হয়েছেন বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“অভিযোগগুলো লিখিতভাবে পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
