জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) রাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব পুকুরপাড়া এলাকা থেকে আল সাহাব নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ওই এলাকার আবু তালেবের ছেলে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে গাংনী থানায় হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আল সাহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০, ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে আল সাহাবকে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে সন্দেহ করা হলেও গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। আল সাহাব মূলত বিভিন্ন অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটে প্রবেশ ও অর্থের বিনিময়ে খেলার একাধিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে ডিবি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে এলে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট পরিচালনার অভিযোগের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর আগে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও অনলাইন জুয়ার খেলোয়াড় গ্রেপ্তারের ঘটনা এটিই প্রথম। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়া এজেন্ট পরিচালনার সন্দেহভাজন হিসেবেও আমরা শনাক্ত করেছি।মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, অনলাইন জুয়া ও সাইবারভিত্তিক অপরাধ বর্তমানে সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ খুব সহজে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, মেহেরপুর জেলা পুলিশ অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক অভিযানে আমরা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনের তথ্য পেয়েছি। কেউ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, আবার কেউ নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত রয়েছে। প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
