বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার শরীফের দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল কুমিরটিকে ধরার পর গাড়িতে করে খুলনায় নিয়ে যায়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র অথবা অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে রবিবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার শরীফের দীঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে ৮ বছর বয়সি শিশু ফাতেমাকে ধরে নিয়ে যায় দীঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি। পরে সোমবার সকালে মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভাসমান অবস্থায় ফাতেমার লাশ উদ্ধার করেন।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল একই দীঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যায়। এসব ঘটনায় কুমিরটিকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ শিশু ফাতেমার মৃত্যুর পর জনদাবির মুখে মাজার শরীফের দীঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, তার নেতৃত্বে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার পালের অংশগ্রহণে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুমিরটির সন্ধান শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে মাজার শরীফের দীঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটিকে ধরা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল কুমিরটিকে আটকের পরপরই গাড়িতে করে খুলনায় নিয়ে যায়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন হলে কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
