নিজ দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগে চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার। সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর তার আর ‘আস্থা’ নেই। ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। দুই বছরেরও কম সময়ে তার নেতৃত্ব টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে।দলের বর্তমান পরিস্থিতি?
এর আগে, সরকারের আরও চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন- জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলে। সোমবার আরও ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারী পদত্যাগ করেন। তবে তাদের জায়গায় ইতোমধ্যে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডজনখানেক এমপি প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ বা সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা ছাড়ার সময়সূচি দিতে আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ১৫০ জনের বেশি এমপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় নয়’।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা চললেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নাম সামনে আসছে। পাশাপাশি সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকেও সম্ভাব্য নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অ্যান্ডি বার্নহামেরও কিছু সমর্থন রয়েছে। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে আগে এমপি হতে হবে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।তবে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘোষণা করেননি। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, এর জন্য লেবার এমপিদের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জনের সমর্থন প্রয়োজন।
যে কারণে অনাস্থা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে
মূলত স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খায় ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। ইংল্যান্ডে তারা ১ হাজার ১০০টির বেশি কাউন্সিল আসন হারায়। একই সঙ্গে ওয়েলসে ২৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। আর স্কটল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির সঙ্গে লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকে তারা। এরপর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতি মন্ত্রীসভার সদস্যদের আস্থা কমতে শুরু করে।
অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বিবিসিকে বলেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে দেশ ‘বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যাবে’। আর সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার বলেন, তার করসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তে এইচএমআরসি তাকে কোনো অনিয়মের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রী ও এমপিদের সতর্ক করে বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই শুরু হলে তা ‘বিশৃঙ্খলা’ তৈরি করতে পারে। তবে স্ট্রিটিংয়ের সমর্থকদের দাবি, তিনি আজই নেতৃত্বের জন্য আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন।
সূত্র: বিবিসি
