বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বরের বাড়ির দিকে যাচ্ছিল বরযাত্রীদের মাইক্রোবাস। পথে গাড়িটির গতিরোধ করে হামলা ও ভাঙচুরের পর নববধূকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। আকস্মিক এ ঘটনায় বর ও বরযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয় রোববার।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর নববধূ তামান্নাকে সঙ্গে নিয়ে বর, স্বজন ও বরযাত্রীরা একটি মাইক্রোবাসে করে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাইক্রোবাসটি জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক সেটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ।
একপর্যায়ে ওই যুবকেরা মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে মিয়াদ মিয়ার নেতৃত্বে ওই যুবকেরা এ হামলা চালান। হঠাৎ করে এমন ঘটনায় বরযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
কনের পরিবারের বরাত দিয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, মিয়াদ নামে এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে তামান্না আক্তারকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর বরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
