মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে উর্মি খাতুন (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত উর্মি খাতুন বিশ্বনাথপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী এবং সোনাপুর মাঝপাড়া গ্রামের ভাসান আলীর মেয়ে।
ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে লাল ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেন উর্মি।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের শাশুড়ি জানান, সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
এ সময় উর্মিও সেখানে ছিলেন। হঠাৎ উর্মি নিজ ঘরে গিয়ে দরজা ভিতর থেকে আটকিয়ে দেন।
পরে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের পিছনের দরজা ভেঙে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নিয়েছেন তিনি।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। উর্মির পিতা ভাসান আলী জানান,
গত শুক্রবার ছাগলকে ভুট্টা খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে উর্মির সঙ্গে তার স্বামী সোহেল বিশ্বাসের ঝগড়া হয়।
খবর পেয়ে নিহত উর্মির পিতা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে আসেন এবং মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে কিন্তু সোহেল যেতে যেতে চান না একপর্যায়ে সোহেল উর্মিকে গলা টিপে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহেলের এক আত্মীয় বাধা দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে নিহত উর্মির এক চাচাতো ভাই জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে উর্মি ফোন করে কান্নাকাটি করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সোহেল বিশ্বাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
মুজিবনগর থানার ওসি (তদন্ত) গৌতম কুমার জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
