মাত্র ২৭ বছর বয়সী ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। দুজনই বর্তমানে নিজেদের ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন মেসি। এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৮।তেমনি শুধু বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের তালিকাই নয়, চলমান বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইটাও জমে উঠেছে তাদের দ্বৈরথে। এখন পর্যন্ত দুজনেই করেছেন ৬টি করে গোল। ফলে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিয়েও চলছে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা।সবচেয়ে বড় বিষয়, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স, দুই দলই এখনও টুর্নামেন্টে টিকে আছে। ফলে সামনে আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে। তেমনি মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোলসংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে কে বসবেন, আর গোল্ডেন বুটই বা কার হাতে উঠবে? এখন সেটিই ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।২০২৬ সালের বিশ্বকাপ লিওনেল মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অভিষেকেই গোলের দেখা পান মেসি। গ্রুপ পর্বে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের বড় জয়ে শেষ গোলটি করেছিলেন তিনি। তবে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে একটিও গোল করতে পারেননি মেসি। অথচ বিশ্বকাপের আগে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে গোলশূন্য থাকা মেসির আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয়।
চার বছর পর ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও জার্মানি। সেই আসরে মেসি চারটি গোল করেন, যার সবগুলোই আসে গ্রুপ পর্বে। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে একটি, ইরানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শট থেকে একটি এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করে দলকে নকআউট পর্বে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে মেসির একমাত্র গোলটিও ছিল নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল পাননি। তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক ম্যাচে গোল করে আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন।তবে এসব গোলের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের গোলগুলো। কাতারে মেসি আগের তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে যত গোল করেছিলেন, তার চেয়েও বেশি গোল করেন এক আসরেই। সবচেয়ে বড় বিষয়, এর আগে নকআউট পর্বে কখনও গোল না করা মেসি ২০২২ সালে নকআউটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই গোল করেন।
গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে একটি এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি গোল করেন। এরপর শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুটি গোল করেন।
লুসাইলে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনাল ৩-৩ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে নিজের শটটি সফল করেন মেসি। এরপর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে তার সাতটি গোল আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
সেই সাত গোল নিয়ে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল দাঁড়ায় ১৩টি। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও ছয়টি গোল করেন। এমনকি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে।
