বিডি জবস, ওয়ালটন, হোন্ডা, ইয়ামাহ, বিজলি মেটাল সহ চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া ১৩ টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের স্টলের সামনে ভিড় জমায় চাকরি প্রত্যাশিরা। কেউ সিভি জমা দিচ্ছে আবার কেউ সিভি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান চাকরি প্রত্যাশিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ভাইভা নিয়ে প্রার্থী নির্বাচিত করছে। তরুন তরুনীদের অংশ গ্রহনে মেহেরপুরে দিন ব্যাপি উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্টিত হয় চাকরি মেলা।
মেলার উদ্বোধন করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শামীম হোসেন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুল বাশার প্রমুখ। দারিদ্র বিমোচন সংস্থার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত রেইজ প্রকল্পের (Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) আওতায় চাকরি মেলায় ৪৫০ টি আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩৮ জন প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০ টার দিকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত এই চাকরি মেলায় আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বেকার যুবকদের কাজের সন্ধানে এমন আয়োজনে খুশি চাকরি প্রত্যাশীর। এই প্রকল্পের অধীনে শিক্ষানবিশি কার্যক্রমের আওতায় ২১০ জন মাস্টার ক্রাফটসপার্সন (ওস্তাদ)-এর তত্ত্বাবোধনে ১৭ টি ট্রেডে ৭৯০ জন শিক্ষানবিশ ৬ মাস মেয়াদি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ৫ দিন ব্যাপি “জীবন দক্ষতা উন্নয়ন” প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে। শিক্ষানবিশদের কর্মসংস্থান সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই “চাকরি মেলা-২০২৬” এর আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় আয়োজকরা। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে নামিদামি কোম্পানিতে চাকরি প্রথমিক ভাবে নির্বাচিত হওয়ায় আনন্দিত আবেদনকারীরা।
এরই মধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষন শেষ করে নিজেই হয়েছেন উদ্দ্যোক্তা। স্বপ্ন রয়েছে আরো অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করার। বেকার সমস্যা দূর করতে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান তারা। অন্যদিকে চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দক্ষতার অভাবে অনেক বেকার তরুন তরুনী চাকরি পাই না। প্রতিষ্ঠানগুলোও দক্ষ কর্মী পাই না। এই মেলার মাধ্যমে দক্ষ কর্মী পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী তারা।
দারিদ্র বিমোচন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর বলেন, নিজেকে দক্ষ হিসেবে তৈরি করতে পারলে কোন কাজের অভাব হবে না। বেকারত্ব থাকবে না। সবার আগে নিজেকে দক্ষ হিসেবে তৈরি করতে হবে। এই ধরনের আয়োজন ভাবিষ্যতেও অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, সমাজে বেকারত্ব দূর করতে এমন চাকরি মেলার আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে চাকরি প্রত্যাশিরা।
