মেহেরপুরে নিজ পিতাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলে মো. সিফাত ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গাংনী উপজেলার নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মনির উদ্দীন রাতের খাবার শেষে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এস. এম. বুলবুল আহাম্মেদ তদন্তকালে নিহতের ছেলে সিফাত ফকিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান। পরে আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০১৯ সালের ৩০ জুন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। শুনানিকালে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ. কে. এম. শফিকুল আলম।
