একদিকে প্রিয় নেতার ৪৬তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা, অন্যদিকে তার কারাবাসের এক বছর পূর্তির নীরব বেদনা-এই দুইয়ে মিলে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক জনপ্রিয় মেয়র এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটনের রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী ও স্থানীয় পৌরবাসী।
আজ (১ জুলাই) ৪৫ বছর পেরিয়ে তিনি ৪৬ বছরে পদার্পণ করলেন আর একই দিনে পূর্ণ হলো তার এক বছরের দীর্ঘ কারাজীবন। গত বছরের এই দিনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। দেখতে দেখতে সেই ঘটনার একটি বছর পেরিয়ে গেল। বিগত বছরগুলোতে এই দিনে যেখানে নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত সাবেক মেয়রের আঙিনা, সেখানে এবারের জন্মদিনটি কাটছে চার দেয়ালের অন্ধকারে, সম্পূর্ণ নীরবে।
মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাহফুজুর রহমান রিটন যেভাবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা আজ এই বিশেষ দিনে আরও বেশি করে মনে করছেন পৌরবাসী। রাস্তাঘাটের আধুনিকায়ন, নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া কিংবা করোনাকালীন সেই কঠিন সময়ে নিজের জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া- তার এমন অসংখ্য মানবিক কর্মকাণ্ড আজও মেহেরপুরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রশংসিত। দলমত নির্বিশেষে যেকোনো বিপদে যার কড়া নাড়লে সাহায্য মিলত, তাকে আজ এই বিশেষ দিনে ভীষণভাবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তার অনুসারী ও স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা জানান, মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন মাঠপর্যায়ের একজন দক্ষ ও প্রভাবশালী সংগঠক। বিগত একটি বছর গভীর কষ্ট এবং আগামী দিনে নেতার ফিরে আসার তীব্র আশা এই দুইয়ের দোলাচলে পার করছেন তারা।
আজ প্রিয় নেতার জন্মদিন, অথচ তিনি চার দেয়ালের অন্ধকারে বন্দী। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আজ সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিবারসহ মেহেরপুরের বহু সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং তার রাজনৈতিক ভক্ত-অনুসারীরা সাবেক মেয়র রিটনের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন।
একই সাথে তারা আশা প্রকাশ করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের প্রিয় মানুষটি দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবারও মেহেরপুরের চেনা আলোয় এবং মানুষের সেবায় ফিরে আসবেন।
