নিয়মনীতি ও সিডিউলের তোয়াক্কা না করে নামমাত্র প্রাইম কোট (বিটুমিনের আস্তর) দিয়ে তড়িঘড়ি করে রাস্তার কার্পেটিং কাজ শেষ করার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং প্রকৌশল দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাবে কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পেরে এখন যেনতেনভাবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ সারছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী সড়কের ব্ল্যাকটপ চাষ করে অর্থাৎ পুরোনো পিচ তুলে ফেলে ভালোভাবে রোলার দিয়ে বেড তৈরি করতে হয়। এরপর সুনির্দিষ্ট নিয়মে প্রাইম কোট দেওয়ার পর কার্পেটিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সম্পূর্ণ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ করে যাচ্ছেন, যা দেখার যেন কেউ নেই।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সদর উপজেলার চকশ্যামনগর হাটের রাস্তা থেকে আমদাহ পযর্ন্ত ১৯৪০ মিটার রাস্তার সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই কাজের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ লক্ষ ১৬ হাজার ৮০৬ টাকা। দরপত্র ও চুক্তি অনুযায়ী কাজটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় গাংনী ‘এইচ এস কনষ্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী এই কাজটির মেয়াদ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার অজুহাতে চরম অনিয়ম ও অবহেলার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। উল্লেখ্য, কাজটি গাংনী ‘এইচ এস কনষ্ট্রাকশন’ পেলেও মাঠপর্যায়ে এর দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন নাজমুল নামের এক ব্যক্তি।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কার্পেটিংয়ের আগে পুরো রাস্তা ভালোভাবে ঝাড়ু দিয়ে ধুলোবালি পরিষ্কার করতে হয়। এরপর নতুন পিচ যাতে পুরোনো রাস্তার সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাইম কোট বা বিটুমিনের তরল মিশ্রণ স্প্রে করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই নিয়ম না মেনেই রাস্তার দুই পাশে নামমাত্র বিটুমিন ছিটিয়েই কার্পেটিং করছে। অনেক স্থানে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সিডিউল অনুযায়ী কার্পেটিংয়ের যে পুরুত্ব থাকার কথা ছিল, তাও দেওয়া হয়নি। অনেক জায়গায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম পুরুত্ব দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাস্তাটির কাজ শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার যেভাবে কাজ করছে, তাতে তাদের আশায় গুড়ে বালি। ধুলোবালির ওপর সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে তার ওপর পিচ ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বেশিদিন টিকবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল জানান, প্রাইম কোট মারছি, ট্যাক কোট মারছি তারপরও যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে তো কিছু করার নাই। রাস্তায় মানুষ যাচ্ছে, গাড়ি যাচ্ছে প্রাইম কোট উঠতেই পারে।
এবিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাব্বির উল ইসলাম বলেন, সিডিউল অনুযায়ী শতভাগ নিয়ম মেনেই কাজ বুঝে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ঠিকাদারকে ত্রুটিগুলো সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
