আগাম শিম চাষে এ বছর লোকসানের মুখে পড়েছে মেহেরপুরের চাষিরা। অটো জাতের শিম চাষ করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ফলন বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। কাঠা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন বলে জানা গেছে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি বছর মেহেরপুর সদর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ৩৪৩ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ও নুরপুর বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ শিমের ফুলে ভরে গেছে। মাঠজুড়ে সবুজ আর বেগুনি রঙের বাহার। তবে চলতি বছর অসময়ে বৃষ্টিপাত ও তীব্র তাপমাত্রার কারণে শিমের মারাত্মক ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শিমের ফলন কমে যাওয়ায় কৃষক লাভ দূরের কথা পুঁজি রক্ষা করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
চাষিরা জানান, গত বছরও তারা ঠিক এই মৌসুমে অটো জাতের শিম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু চলতি বছর আবহওয়া অনুকূলে না থাকায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। একদিকে গরম অন্যদিকে অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে গাছে কোনো ফুল স্থায়ী হচ্ছে না, পচে যাচ্ছে, যে কারণে ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
নুরপুর গ্রামের চাষি সজিব জানান, আবহওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছর একই জাতের শিম আবাদ করে ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু এবছর চিত্র ভিন্ন। এখন বাজারে শিমের দাম বেশি হলেও ফলন নেই।
তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ১৩ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিন মাস পর শিম বিক্রির কথা থাকলেও পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন নেই।
প্রতিটি গাছে প্রচুর ফলন আসে। তবে বর্তমানে গাছে কোনো ফুল ও ফল দাঁড়াচ্ছে না। ফলে কাঠাপ্রতি তিন-চার কেজি শিমও পাওয়া যাচ্ছে না।
পিরোজপুর গ্রামের লাল মিয়া বলেন, ১০ কাঠা জমি লীজ নিয়ে এবছর শিমের চাষ করেছি। গত বছর এই জমি থেকেই প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ মণ করে শিম বিক্রি করেছি। কিন্তু এবছর আমার গরম আবহাওয়ায় আমার সব শেষ। গাছে পর্যপ্ত ফুল থাকলেও ফলের দেখা নেই। পরিচর্যার কোন কমতি ছিলো না। বাধ্য হয়ে গাছ কেটে ফেলছি। জমি লীজের টাকা তো উঠবেই না বরং আজকে যে লেবার নিয়ে কাজ করছি তাদের টাকা কোথায় থেকে দেবো আমি সেই চিন্তা করছি।
একই কথা জানান ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, এলাকায় নানা জাতের সবজি চাষের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে শিম আবাদ বেশ লাভজনক হয়ে ওঠে। কিন্তু এ বছর আমাদের শিম চাষ করে লাভ তো দূরের কথা পুঁজি রক্ষা করতেও পারছি না। অন্যান্য বছর এই মৌসুমে শিম চাষ করে বিঘাপ্রতি এক থেকে দুই লাখ টাকা আয় করলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে এখন এক বিঘা জমিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন না তারা। ফলে শিম চাষ করে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ফলন বিপর্যয় হওয়ায় বাধ্য হয়ে জমির সমস্ত শিম গাছ কেটে ফেলছি।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, মেহেরপুর জেলায় প্রচুর সবজি হয়। শীতে আগাম সবজি হয় তারমধ্যে শিম অন্যতম। এবছর মাঠে ৩৪৩ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। কিন্তু গরমের কারণে শিমের সমস্যা হয়েছে। শিমের ফুল হচ্ছে কিন্তু ফল দাড়াচ্ছে না। এখন একটু ঠান্ডা পড়া শুরু হয়েছে আশা রাখি সমস্যা কেটে যাবে। চাষিরা হতাশ হয়ে শিম গাছ কেটে ফেলছে। তাদেরকে গাছ না কাটতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু ঠান্ডা শুরু হয়েছে এখন শিম আর ঝরবে না।
