নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালাসহ আইন ও বিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আগামী আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের কাছে নতুন অর্থবছরের জন্য প্রায় দুই হাজার ৯০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চেয়েছে ইসি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বরাদ্দ হওয়া অর্থের সমান।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তনের কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। সংসদে অনুমোদিত এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় ইসির প্রতীক সংরক্ষণ আইনও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এসব আইন-বিধি সংশোধনীর খসড়া তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের জন্য আলাদা আলাদা আইন-বিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন শেষে চলতি জুনের মধ্যে সেগুলো সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। সবার মতামত নিতে ১৫ দিন উন্মুক্ত রাখা হবে এগুলো। এরপর কমিশন সভায় খসড়া অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাইয়ের মধ্যে সব বিধি ও আইনের সংস্কার শেষ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম কেনাকাটা, মজুদ ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ শেষে আগস্টে স্থানীয় সরকারের অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে ইসির।
