ফেসবুক থেকে প্রেম আর প্রেমের টানে ৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিবাহ করতে মেহেরপুরে আসলেন দুই চীনা নাগরিক। অবশেষে পরিচয় গোপন করে পালালেন তারা। শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার টেংরামারী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। টেংরামারী গ্রামের স্থানীয় মৃত লিটনের কন্যা মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থেকেই বাংলাদেশে আসা।
মেয়ের বাড়ি থেকে দুই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করলেও কোন তথ্য রাখেননি পুলিশ। দুপুর দুইটার গাড়িতে মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনে পরিচয় গোপন করে চাকমা নাম দিয়ে দুটি টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিয়ে করতে আসা দুই চীনা নাগরিক। বাসের সিট নাম্বার দুটি হলো জে ওয়ান জে টু।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে চায়না থেকে আগত দুইজন চীনা নাগরিক মেহেরপুর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি হঠাৎ করে গ্রামে উপস্থিত হন। তারা স্থানীয় মৃত লিটনের কন্যা মরিয়ম খাতুনের (১৬) সঙ্গে ফেসবুক প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এলাকায় আসেন বলে স্থানীয় লোকজনকে জানান। এই দুই চেনা নাগরিক পরে মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নারী পুরুষ সহ নানা বয়সের মানুষ বিদেশী চীনা নাগরিকদের দেখতে ভিড় জমান। এমন ঘটনায় মেয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ট্রিপল নাইনে কল দিলে খবর পেয়ে সাহেবপুর ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে বিয়ের বিষয়টি দুই চীনা নাগরিককে জানালে তারা পরিস্থিতি খারাপ দেখে বিয়েতে সম্মতি না দিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় এলাকা ত্যাগ করেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করেনি, এমন কি দুই চীনা নাগরিক কারোরই পরিচয় সংরক্ষণ করেনি সাহেবপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা।
মেহেরপুর সদর থানাধীন সাহেবপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শফিক আহমেদ এনপিবি নিউজ কে বলেন, টেংরামারি গ্রামের স্থানীয় একজন ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়। এরপর আমি সেখানে যেয়ে দেখি দুজন চীনা নাগরিক এসেছেন। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে দুপুর দুইটার রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনে করে ঢাকা পাঠিয়ে দিই। তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে বিবাহ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
previous post
