মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের পোষ্ট অফিস পাড়ায় আদালতে বিচারাধীন জমি দখল নিতে ভিখারিনীর বাড়ি ঘর ভাংচুর করে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।
আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হলেও আইন অমান্য করে জমি দখল নিতে বাড়ি ঘর ভাংচুর করে উচ্ছেদ করার অভিযোগ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমল থেকে বসবাসকারী একটি হত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা উচ্ছেদ আতংকে বসবাস করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাজীপুর গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী রঙ্গিলা খাতুন (৫৮)দীর্ঘ ৭৫ বছর যাবত কাজীপুর গ্রামের পোষ্ট অফিস পাড়ায় বসবাস করে আসছে।
সরকারী খাস জমি হিসেবে তারা বসবাস করে আসছিল।এত বছর পর প্রতিবেশী মৃত দবিরউদ্দীন মেম্বরের ছেলে ভিদা হাসান (শিক্ষক) তার লোকজনদের সহায়তায় বৈধ কাগজ পত্রে জমির মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক বাড়ি ঘর ভাংচুর করে এমনকি রঙ্গিলার বাবার কবর পর্যন্ত উচ্ছেদ করে দখলে নিয়েছে।
তার সাথে সাথে তার কাঁটার বেড়া দিয়ে ভিখারিনী রঙ্গিলা খাতুনের বাড়ির ঢোকার পথ আটকিয়ে দিয়েছে। পাড়া মহল্লা ও গ্রামের একাধিক লোকজন জানায়, রঙ্গিলা খাতুন একজন ভিখারিনী অসহায় মহিলা ।
দীর্ঘদিন যাবত তারা বসবাস করে আসছে। তার বাবার কবরও ঐ জমিতে রয়েছে। সরকার যখন ভুমিহীন অসহায়দের বাড়ি করে দিচ্ছেন তখন তাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে জোরপুর্বক উচ্ছেদ করার পায়তারা চালানো হচ্ছে।
রঙ্গিলা খাতুন জানান, আমি একজন গরীব মানুষ। ভিক্ষাবৃত্তি করে আমার সংসার চলে। বাড়ি ঘর ভাংচুর করে সম্পত্তি জবরদখল করায় আমার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে আমি মোকাম গাংনী সহকারী জজ আদালতে দেং-৪০/২০২৩ মামলা করেছি এছাড়াএ নির্বাহী আদালতে পিটিশন ৫৯১/২৩, ধারা ১৪৫ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রঙ্গিলা খাতুনের কোন কাগজ পত্র না থাকলে এস এ ১১৫৩ নং খতিয়ানে আমমুক্তার পক্ষে রাহাতুল্লাহ নামের একজন মালিকের নামে ৩ টা দাগে ৩১ শতক জমি রেকর্ড রয়েছে।
আর এস ৩২৫৮ নং খতিয়ানের ৫২৩৯ দাগের রেকর্ড থেকে জানা গেছে, রঙ্গিলা খাতুনের মা মনজিরা খাতুনের নামে ২০ শতক রেকর্ড রয়েছে। বাকী ১১ শতক জমি আর এস ২৩৬৭, ১৮১২, নং খতিয়ানে পতিপক্ষ ভিদা হাসানের বাবার নামে রেকর্ড হয়েছে।
রঙ্গিলা খাতুন বলেন গ্রামের মানুষের সহযোগীতায় আমি ১১ শতক জমির রেকর্ডের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে ৪০/২০২৩ মামলা করেছি। বর্তমান মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আমার ঘর বাড়ী ভাংচুর করেছে পতিপক্ষরা । এঘটনায় নিতি বিচার দাবী করছেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ভিদা হাসান জানান, বৈধ কাগজ পত্র নিয়ে দলিল মোতাবেক আমি জমি দখল নিয়েছি।জমি নিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা চলমান । আমার সমুদয় কাগজ পত্র রয়েছে। আমি একাধিকবার মামলায় জয়লাভ করেছি।আমার বাবার নামে রেকর্ড রয়েছে ।
কাজীপুর মৌজার নালিশী জমি খতিয়ান নং-২৩৬৭ এর দাগ নং-৫২৩৮ জমির পরিমাণ ৪ শতক এবং ১৮১২ খতিয়ানের ৫২৩৮ দাগের ২ শতক জমি মোট ৬ শতক জমির আমরা বৈধ মালিক। আমার প্রতিপক্ষ রঙ্গিলা খাতুন যে জমি নিয়ে মামলা করেছেন সেই জমির দাগ নং ৫২৩৯ ।
বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ পরিষদের সকল মেম্বরবৃন্দ ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশ করে আমাদের জমির ফয়সালা করে দিয়েছেন। অতএব আমার সাথে বাদীর কোন অভিযোগ চলে না। মিথ্যা মামলা করে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
