স্টাফ রিপোর্টারঃ
করোনা সবার জীবনে অভিশাপ হয়ে আসেনি কারোর জীবনে আবার আশীর্বাদ হয়েও এসেছে। ২০২০ সালের শেষের দিকে যখন সারা বিশ্বে করোনাতে গ্রাস করলো। একাকী বন্দী ঘরে বসে বসে হেলেন আক্তার কামনা চিন্তা করলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করছে। তখন হেলেনা খাতুন ভাবলেন ‘আমিও তো ইচ্ছে করলে পারি কাজ করতে, পারি সফল উদ্যোক্তা হতে। মাথায় এলো বেকিং কেক নিয়ে কাজ করার আইডিয়া। আর মনের ভেতর একটি কথা নিয়েই পথ চলা সেটি হলো, বিশ্বের যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করে ফেললেন সব আইটেমের হোমমেইড কাস্টমাইজ কেক, থীমকেক ও চকলেট কেক, আইসক্রিম কেক তৈরির কাজ। প্রথম দিকে যদিও এটা নেশার বসে করতেন পরে নেশাকে পেশা হিসাবে নিয়ে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পরেছে তার নাম।
বর্তমানে নতুন উদ্দোক্তাদের আয়কন হিসাবে নিজেকে প্রমান দিয়েছেন । তিনি বিশ্বাস করতেন লেগে থাকলে সফলতা অবশ্যই আসবে। তাই লোকচক্ষু লজ্জা ত্যাগ করে ভয়কে জয় করে ২০২২ সালের উপজেলা সেরা উদ্দোক্তা হয়ে জয়ীতা পুরষ্কার পেয়েছেন । তিনি চেষ্টা করেন কাস্টমারের চাহিদা মতো ডিজাইন ও ফ্লেভার দিতে। বেস্ট কোয়ালিটি সম্পন্ন ফ্রেশ কেক সরবরাহ করার জন্যই তার রিপিট কাস্টমারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বেশ ভালো সাড়াও পাচ্ছেন।এরই মধ্যে দেশের বাইরে থেকেও অর্ডার আসতে শুরু করেছে। স্বপ্নে গড়া আলমডাঙ্গা মাদ্রাসা পাড়াতে নিজ বাড়ি জাহানারা মন্জিলে সারারাত জেগে নিজ হাতের বুনয়ে বাবুই পাখির বাসার মতো সাজিয়ে তোলে এক একটি কেক।স্বামী এহসানুল হক রিপন সবসময় তাকে সামনের দিক থেকে সাহস দিয়েছেন। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করে চাকুরী না করে উদ্দোক্তার পথ বেছে নিয়েছেন ।তার স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্ত হিসেবে চুয়াডাঙ্গার ভিতর একজন হতে হবে এবং সেটা বাস্তবায়নও হয়েছে । তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিজ হাতে গড়া ড্রীম কেক হাউজে গ্রামের অবহেলিত মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। হেলেন আক্তার কামনা বলেন, যখন অধিকাংশ মানুষ ব্যর্থতার শিকার হয়,তখন তারা হাল ছেড়ে দেয়, কিন্তু ভালো উদ্যোক্তারা কেবল ব্যর্থতাকে একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করে এবং এটিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যায়। তিনি বলেন নারীরা শুধু চুলই বাঁধতে জানে না, তাঁরা পুরুষের পাশাপাশি উদ্দোক্তা হিসাবে নিজেদের প্রমাণিত করছে।
