যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরিব হওয়াতে চা বিক্রেতার কন্যার সংসার ভাঙতে চল
আলমডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
আলমডাঙ্গার আসমানখালী শালিকায় চা বিক্রেতার মেয়ে লিজাকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের বাবলু মিয়ার কন্যা লিজা খাতুন (২০)। পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার, গাংনী শিশিরপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৫ জুলাই ২০২৩ বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়। বিবাহের প্রথম সপ্তাহ হতে না হতেই স্বামী তার উপর যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাতে থাকে। নববধূ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী লোকজন দেখে ফেলায় এবং নিকটে ডাক্তারের চেম্বার থাকায় কোনভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন। কনের পিতা একজন চা বিক্রেতা হওয়ায় স্ত্রীকে এখন মেনে নিতে পারছেন না ইতালি প্রবাসী মামুন ।বর্তমানে তার মোবাইল ফোন বন্ধ এবং সর্ব রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রবাসে থাকায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ায় চা বিক্রেতা শ্বশুর ও তার কন্যাকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না । সেজন্য নব কৌশল অবলম্বন করে মামুন কন্যার পিতার কাছে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। মামুন জানে কন্যার পিতা যৌতুক দিতে পারবে না, বিধায় মেয়েকেও পাঠাতে পারবে না এই কৌশল করে স্থানীয় নেতা বর্গদের হাতে রেখে একজন চাপ বিক্রেতার সহজ সরল মেয়ের সম্মান নিয়ে খেলছে ।
এদিকে পাড়া প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানা যায়, মামুনের পরিবার খুবই গরিব ও অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন পূর্বে মামুন চোরাই পথে লিবিয়া পাড়ি জমায় এবং সেখানে কিছুদিন থাকার পরে মোবাইল ফোনে আসমানখালি শালিকা গ্রামের লিজার সাথে বিবাহ হয়। মামুনের পরিবারের অসচ্ছল থাকায় লিজার পিতা চা বিক্রয় করে বাবলু মেয়ের শ্বশুর বাড়ির যাবতীয় খরচ চালিয়ে আসছিলেন। মধ্যেখানে জামাই মামুন পানিপথে ইতালি পাড়ি দিলে ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। গত জুলাই মাসে দেশে এসে ৫ হাজার দেনমোহর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন করে। এক সপ্তাহের মাথায় স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য নির্যাতন চালাতে থাকে এবং যৌতুকের দাবিতে ছোট ভাই ও মাকে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
এদিকে অভিযুক্ত মামুনের সাথে মোবাইল ফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন অন্য মানুষকে দিয়ে রিসিভ করায় এবং তাৎক্ষণিক জবাব দেয় মোবাইল হারিয়ে গেছে।
