গাংনী প্রতিনিধি :
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার এমবিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে,বিদ্যালয়,টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ০৪/০৩/২৪ রোজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উক্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি , শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের আয়োজনে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যেই তিনি জানান, বিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মোঃআনোয়ার হোসেন রেজুলেশনে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গোপনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির গঠনের লক্ষ্যে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পকেট কমিটি প্রেরণ করেছেন । তিনি আরো বলেন, পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের যে বিধান, খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন, চুড়ান্ত ভোটার তালিকা শিক্ষার্থীদের জানানো হয়নি। এমনকি নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুঁয়া খসড়া তালিকা ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা করে অসাধু উপায়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আব্দুর রব এর নাম সভাপতি হিসেবে যশোর বোর্ডে প্রেরণ করেছে। এব্যাপারে যশোর শিক্ষা বোর্ডে বিদ্যালয় পরিদর্শককে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর জেলা প্রশাসককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এটা সুষ্ঠু তদন্ত করে এই অবৈধ উপায়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধে এলাকাবাসীর দাবি পুরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
লিখিত ঐ বক্তব্যেই আরও বলা হয়েছে, এই অবৈধ প্রক্রিযার সাথে জড়িত প্রধান শিক্ষক মোঃআনোয়ার হোসেন,সহ যারা জড়িত তাদের সবাইকে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে । সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, আনোয়ার হোসেন নিজেকে দীর্ঘদিন যাবত উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পরিচয় দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তিনি গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ প্রাপ্ত স্টাফ। অথচ তিনি কলেজের পদ গোপন রেখে উক্ত এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সরকারী বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। একজন ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারী অর্থ উত্তেলন করতে না পারলেও আনোয়ার হোসেন ভূয়া পরিচয় দিয়ে বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন। এনিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিচালনা পরিষদ কমিটি গঠন হলেও বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বিষয়টি জানেন না। এছাড়াও অফিসের হাজিরা খাতায় অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়মিত হাজিরা স্বাক্ষর থাকলেও প্রধান শিক্ষকের হাজিরা খাতায় কোন স্বাক্ষর নেই। এ বিষয়ে গাংনী সরকারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন না। তিনি আমার কলেজে নিয়মিত কর্মচারী হিসাবে চাকরী করেন।
এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে মোবারক বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
