গাংনী প্রতিনিধিঃ
যুব উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধন নেই, তবুও যুব উন্নয়ন থেকে দেয়া হচ্ছে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা। সুযোগ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাহা যুব নারী কল্যাণ সংস্থা”কে। নিবন্ধন নেই এমন কথা স্বীকার করেছেন খোদ গাংনী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসাদ জামান। গেল কয়েকদিন আগে গাংনীর ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাঁস-মুরগি পালনে প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রশিক্ষণ না দিয়ে, দেওয়া হয় তাহা যুব নারী কল্যাণ সংস্থা” কার্যালয়ের ঝুপড়ি ঘরে । যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ১৮-৩৫ বছর বয়সী বেশি নারীদের দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। সেই প্রশিক্ষণে ছিলনা কোন ব্যানার। এখনো দেয়া হয়নি প্রশিক্ষনার্থীদের সম্মানী ভাতা। এমন তথ্য চাওয়াই গাংনী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসাদ জামান নিজেকে বাংলাদেশ বার্তা’র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।
জানা গেছে, চলতি শীতে যখন অসহায় দরিদ্র মানুষ শীতবস্ত্র পাবার জন্য উপজেলা পরিষদে চত্বরে ঘুরে ঘুরে ব্যর্থ হয়েছে ঠিক, তখনই গাংনী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসাদ জামান “তাহা যুব নারী কল্যাণ সংস্থা” ৩০ জন সচ্ছল নারী সদস্যদের মাঝে সরকারি কম্বল বিতরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসি, যুব উন্নয়নের নিবন্ধিত সংস্থার কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দরা।
নাম প্রকাশ করা যাবে না এমন শর্তে কয়েকটি নিবন্ধিত যুব উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা বলেন, আসাদ জামান যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন যুব উন্নয়নের অনিবন্ধিত সংস্থার সদস্যদের বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তাহা যুব নারী কল্যাণ সংস্থা”র পরিচালক নাসিমা খাতুন এর কাছ থেকে অনৈতিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আইডি কার্ড ছাড়া, জন্ম নিবন্ধনে বয়স কমিয়ে নিবন্ধন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই সাথে তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিবন্ধিত দাবি করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অথচ তার কোন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া করছেন। সেই সাথে তাকে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানি না নাসিমার কাছে আসাদ জামান সাহেব কি মধু পেয়েছেন??
প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, ১৮ থেকে ২০ জন প্রশিক্ষণাকি ছিল গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। তিনি আরো বলেন সেখানে কোন ব্যানার ছিল না শুধুমাত্র একটি আধা পাকা ঘরে প্রশিক্ষণ হয়েছে। ব্যানার ছিল না আর কেন প্রশিক্ষণের কি কম ছিল এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারাই ভালো জানেন।এ বিষয়ে
গাংনী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসাদ জামান জানান, তাহা যুব নারী কল্যাণ সংস্থা” নিবন্ধনের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেছে। এখন পর্যন্ত নিবন্ধন দেয়া হয়নি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিবন্ধিত সংস্থা হিসেবে দাবি করলে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। সেই সাথে সংস্থার পরিচালক নাসিমা খাতুন এর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সে আমাদের ভোটার আইডি কার্ড দেয়নি, জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ঠিক আছে। এমনকি তিনি নিজেকে বাংলাদেশ বার্তার সাংবাদিক পরিচয় দেন। প্রশিক্ষণের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন নিয়মমাফিক প্রশিক্ষণ হয়েছে। প্রশিক্ষণের সমাপনী দিন মেহেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ নিজে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণথীদের সম্মানী বিতরণ করেছেন।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জানান, ভাটপাড়ার কোনো প্রশিক্ষণ সম্পর্কে আমার জানা নেই। আর আমি সম্মানী বিতরণ করি নাই। তবে যুব উন্নয়ন থেকে কোন প্রোগ্রাম হলে প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ব্যানার থাকতে হবে। এমনিতে গ্রাম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ হতে পারে তবে কোন সংস্থা যদি যুব উন্নয়ন থেকে নিবন্ধন না নেন তাহলে সেখানে প্রশিক্ষণ করানো যাবে না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে নাসিমা খাতুন এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ এর চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।
