শেষ মুহূর্তে এসে স্থগতি করা হলো, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠান। কারণ হিসা্বে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশাল জনসমাবেশ এড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর আগে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতা খামেনির স্মরণে একটি বিশাল শোকযাত্রা ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বুধবার ভোরে এক বিবৃতিতে ইসলামি উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদ জানায়, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে শহীদ নেতার সম্মানে তিন দিনব্যাপী শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক অনুষ্ঠান হবে। স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।তবে আয়োজক কমিটি পরবর্তীতে জানায়, শোকাতুর মানুষের নজিরবিহীন উপস্থিতির আশঙ্কায় এই বিদায় অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের নতুন তারিখ ও সময় খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন মোড় ও মসজিদগুলোতে মাগরিবের নামাজের পর থেকে শুরু হওয়া শোকসভাগুলো জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কাউন্সিল তাদের আগের বিবৃতিতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিল এবং ইরানি সমাজের সব স্তরের মানুষকে- নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শ্রমিক-কৃষক এবং আলেম সমাজকে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, মানুষের এই ব্যাপক উপস্থিতি জাতীয় ঐক্য, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্য এবং বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় অটল থাকার প্রমাণ দেবে।বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনিকে আল্লাহর একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যিনি সারাজীবন ‘বিশুদ্ধ মুহাম্মাদি ইসলাম’ শক্তিশালী করতে, ইরানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ সুসংহত করতে উৎসর্গ করেছেন। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জাতীয় স্থান, যা ঐতিহাসিকভাবেই বড় বড় জমায়েত ও অনুষ্ঠানের সাক্ষী।
সমন্বয় পরিষদ আরও নিশ্চিত করেছে, তিন দিনের শোক পালনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দাফন ও শেষকৃত্য প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিও বর্তমানে চলছে এবং চূড়ান্ত হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
কাউন্সিল আশা করছে, জনসাধারণের এই বিশাল উপস্থিতি ইরানের সীমান্তের বাইরেও একটি বার্তা পৌঁছে দেবে, যা সমর্থকদের আশান্বিত করবে এবং শত্রুদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের পথ চলতেই থাকবে। উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবনে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তাঁর স্ত্রী, কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ এবং দুই নাতি-নাতনিসহ পরিবারের অনেক সদস্য শহীদ হন। রোববার ভোরে তাঁর শাহাদাতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
