মেহেরপুরে শ্বশুর হত্যার অভিযোগে জামাতা আলমগীর হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে আরো দুই বছরের দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম নাসিম রেজা এ রায় দেন। সাজা প্রাপ্ত আলমগীর হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার রামনগর কলোনী পাড়ার সোহরাব হোসেনের ছেলে।
মামলার বিবরনে জানা গেছে গত ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারী আসামি আলমগীরের সাথে রামনগর কলোনী পাড়ার নুরুল ইসলাম এর মেয়ে বুলবুলি খাতুনের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পরে আলমগীর তার স্ত্রীর মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে যৌতুক হিসেবে জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পরেও স্ত্রী বুলবুলির উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখেন আলমগীর। ওই ঘটনায় আলমগীরের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ এর ১১ খ ৩০ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় আলমগীর হোসেন কে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আলমগীর জেলখানা থেকে বের হয়ে এসে ২০১৬ সালের ১৮ই জানুয়ারি রাতে শ্বশুর নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে গিয়ে শশুরকে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করতে থাকেন।
এসময় তাকে গালাগালি করতে নিষেধ করা হলে আলমগীর হোসেন উত্তেজিত হয়ে, শ্বশুর নুরুল ইসলাম কে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন। পরে আশেপাশের লোকজন নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০সজ্জা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়। ওই ঘটনা নুরুল ইসলামের স্ত্রী হাসেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমগীর হোসেন এবং তার পিতা সোহরাব আলি ও মাতা রোকেয়া খাতুন সহিদুলের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪ এবং ৫০৬ ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
যার মামলা নং জেআর কেস নং ২৬/১৬ এস সি নং ১৯৩/১৫। পরে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয় । ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতের চার্জশিট দাখিল করেন। এবং মামলায় ১৩ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আলমগীর হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমান অনাদায় আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এএসএম সাইদুর রাজ্জাক টুটুল এবং আসামিপক্ষের অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান কৌশলী ছিলেন।
