আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার জলিলপুর সাতমাথা মোড়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মহেশপুর উপজেলা সভাপতি মুহাঃইব্রাহিম আলীর এর সভাপতিত্বে আয়োজিত
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলেন ৯২% মুসলমানের দেশে হিজাব পড়ার কারণে ছাত্রীদের শিক্ষিকা মারধর করবে এই সাহস পায় কোথায় থেকে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিছু কুচক্রী মহল সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এবং এর মধ্যে যে গভীর চক্রান্ত আছে তা খুঁজে বের করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
হিজাব পড়ে স্কুলে আসায় ছাত্রীদেরকে অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, ধর্মীয় বিদ্বেষ লালন করে ধর্ম পালনের অধিকার হরণের অপচেষ্টার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমুদনী পালকে অপসারণ করে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমেকভাবে পিটিয়ে জখম করে নারী অধিকার ক্ষুণ্ণ, পোশাক আইনের আওতায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঝিনাইদহ জেলা মহেশপুর উপজেলা শাখা।
মনববন্ধনে উপস্হিত সহ সভাপতি নুর আলম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সবুর প্রশিক্ষণ সম্পাদক আশিক সহ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ।
উল্লেখ্য ঃ-গত বুধবার নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হিজাব পড়ে স্কুলে আসার অপরাধে কমপক্ষে ১৮ জন ছাত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমোদিনি পাল।
পরে বুধবার দুপুরে পিটুনি খেয়ে ছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তারা তাদের অভিভাবকদের জানালে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। এঘটনায় অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এর জের ধরে কয়েকশ’ অভিভাবক বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই স্কুলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে না পেয়ে তারা স্কুলের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের দুটি ভ্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন অভিযোগ করে বলেন, বুধবার দুপুরে জাতীয় সঙ্গীতের পর লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনি পাল কেন হিজার পড়ে স্কুলে এসেছে এ কথা জিজ্ঞাসা করে ইউক্যালিপ্টাস গাছের ডাল দিয়ে তাদেরকে প্রহার করেন। শিক্ষিকা তাদেরকে জানিয়ে দেন যে, ‘স্কুলে কোন পর্দা চলবে না। ঢং করে আসছো। বাসায় গিয়ে বোরখা পড়ে থাকো। যখন তোমরা মহাদেবপুর বাজারে যাবে তখন পর্দা করবে। স্কুলে আসলে মাথার কাপড় ফেলে আসবে।’ তিনি ছাত্রীদের হিজাব খুলে ফেলার জন্য টানাটানি করেন। এমনকি যারা হিজাব ছাড়া শুধু মাস্ক পড়ে এসেছিল তাদের মাস্কও খুলে দেন। তিনি হুমকি দেন যে, ‘কাল থেকে যদি হিজাব ও মাস্ক পড়ে আসো তাহলে পিটিয়ে তোমাদের পিঠের চামড়া তুলে নেয়া হবে।’
শিক্ষার্থী সাদিয়া আরও জানায়, লাইনের কয়েকজন ছাত্রীকে মারতে মারতে তার কাছে এসে তাকে মারতে থাকলে লাঠি ভেঙ্গে যায়। অন্যদের মধ্যে দশম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি, সুমাইয়া, তিথি, লাকি, নবম শ্রেণির মোনাসহ কমপক্ষে ১৮ জন ছাত্রীকে পিটানো হয়।
অভিভাবকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা স্কুল ঘেরাও করেন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষিকা এদিন স্কুলে আসেননি। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে ছাত্রীদের হেনস্থা করার বিষয় প্রমাণ হলেও তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকার জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
