মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামে হাঁসের খামার মালিক সজল, ইরন ও ঈশান নামের তিন যুবকের নামে ভৈরব নদীর ধারে হাঁসের খামারে মানুষ হত্যা করে গুমের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে চকশ্যামনগর গ্রামের গ্রামবাসী ভৈরব নদীর ধারে হাঁসের খামারের সামনে একত্রিত হয়ে এই তিন যুবকের নামে মানুষ হত্যা করে গুমের অভিযোগ করে। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহদারা খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গ্রামবাসীরা বলছেন, ইরন ও সজল কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কখনোবা র্যাব পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছেন গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসীরা আরো বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত আনুমানিক দশটা পর্যন্ত খামারের ভিতর একজন মানুষের উপর অমানবিক নির্যাতন করে এবং পরে তাকে গুম করে দেওয়া হয়। তবে মানুষটিকে দেখেনি কেও, কি তার পরিচয়? জানতে চাইলে গ্রামবাসীরা বলেন, আমরা কাউকেই দেখিনি কিন্তু ভেতর থেকে কেউ একজন চিৎকার করছিল। তখন গ্রামবাসীরা খামারের ভিতরে যেতে চাইলে তাদেরকে যেতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। গ্রামবাসী আরও বলেন, সজল ও ইরণ খামারের ভিতর দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। মেহেরপুর সদর থানার এএসআই কোহিতুর বলেন, সজলের নামে মেহেরপুর সদর থানায় মাদকের মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে মেহেরপুর দায়রা ও জজ আদালতে চলমান রয়েছে। সজল বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং ইরণ মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের ইছাদ্দেক আলীর ছেলে, তাদের বর্তমান ঠিকানা মেহেরপুর শহরের কাসারীপাড়া। খামার মালিক ইরন বলেন, এখানে আমাদের খামার দেওয়ার কারনে গ্রামের মানুষের আমাদের উপর দীর্ঘদিন ধরেই রাগ রয়েছে, খামারের গন্ধের কারনে ও খামারের ভিতর গ্রামবাসীদের ঢুকতে না দেওয়াই গ্রামবাসীরা এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে আমার ছোটভাই ঈশানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছিল সেই সূত্র ধরেই গ্রামবাসী এই মিথ্যা অভিযোগ করছে। মেহেরপুর সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহদারা খান বলেন, গ্রামবাসী যে অভিযোগ করছে সরোজমিন পরিদর্শন করে আমরা তার কোনো সত্যতা পায়নি, তবে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই সময় অন্যদের মধ্যে মেহেরপুর সদর থানার ওসি (অপারেশন) সামদানী রসূল, এস আই নবী, এএসআই কহেতুর সহ ডিএসবি’র সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
previous post
