নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের কাছে এবার প্রতারিত মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের অধশত নারী পুরুষ। করোনার সহায্যের নাম করে এক বছর আগে তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় আঙ্গুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেয় একই এলকার দেলায়ার হোসেন দিপু, সাজেদুর রহমানসহ কয়েকজন। ভূক্তভূগীদের সাইফুলের নামে সিআইডি থেকে অথজালীয়াতরি সন্দেহভাজন হিসেবে একটি নথি আসলে এলকাই তোলপাড় শুরু হয়েছে
জানা গেছে, গেল বছরের ২ জানুয়ারী মেহেরপুর মজিবনগর থানায় হাজির গোপালপুর গ্রামের অধশত নারী পুরুষ। তাদের একজন ৮৪ বছরের খৈইবুড়ি খাতুন এসেছেন লাঠির উপর ভর করে। হাটতে না পারলেও খড়িয়ে খুড়িয়ে এসেছেন থানায়। চোখে মুখে হতাশার ছাপ। শুধু খইবুড়িই নয় তারমতো অনেক বৃদ্ধা-বৃদ্ধ এসেছেন থানায়। সাথে ছিলো দুই জন জনপ্রতিনিধি।
তাদের অভিযোগ, এক বছর আগে করোনার সাহায্যের নাম করে গোপালপুর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে যায় এলাকার দেলোয়ার হোসেন দিপু, সাজেদুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন। জানান, করনোয় সরকারীভাবে সাহায্য এসেছে। আগামীতে আরো আসবে। ৫শ টাকার বিনিময় তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও আঙগুলের ছাপ। তাদেরই একজন সাইফুল ইসলাম।
গেল বছরের ২৭ ডিসেম্বর স্থানীয় কোমরপুর পুলিশ ক্যাম্পে অথজালিয়াতির সন্দেহভাজান হিসেবে একটি নথি আসে। সেই নথিতে নাম আসে গোপালপুর গ্রামের ভূক্তভূগী সাইফুল ইসলাম, অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ড দেলোয়র হোসেন তার সহযোগী সাজেদুর রহমান ও কোমরপুর গ্রামের মুকুল ইসলামের নাম। সাইফুলের বিরুদ্দে অথজালিয়াতির নাম আসায় আতঙ্কিত এখন ঐ এলকার অধশত নারী-পুরুষ। কারণ করোনার সহায়তার নাম করে তাদের কাছ থেকেও যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে।
খৈইবুড়ি খাতুন বলেন, আমরাতো লেখাপড়া জানিনা। দিপু ও তার সহযোগীরা দুপুরে বাড়িতে আসে। বলে করোনার সাহায্য এসেছে। এই বলে আমার হাতে ৫শ টাকা ধরিয়ে দেয়। আর ছাপ নেয় আঙ্গুলের, নেয় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। এখন শুনছি আমাদের নামে সীম তোলা হয়েছে। পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। তাই থানায় এসেছি।
একই গ্রামের বিলকিস খাতুনের সাথে নাকি এমনটাই হয়েছে। তাই সকলের সাথে থানায় এসেছি। বলছেন আমার নামেও যদি সীম তোলা হয়। তাহলেতো বিপদে পড়তে হবে পুরো পরিবারকে। সেই নিয়ে বিপদে এখন পুরো পরিবার।
বিষয়টি নিয়ে আরো জানতে আমরা যায সাইফুলে বাড়িতে। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই হাজির দিপু ও তার লোকজন। পালিয়ে যায় সাইফুল। তবে দিপুদের সাথে কথা বলতে রাজি না হলেও তারা চলে গেলে রোখছানা কথা বলে আমাদের সাথে। এ সময় সে সব কথা স্বীকার করেন। বলেন দিপু ও সাজেদুর সহ বেশ কয়েকজন বাড়িতে এসে আমার স্বামীর আঙ্গুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যায়। এখন শুনছি আমার স্বামীর নামে সীম তোলা হয়েছে। আমাদের ঢাকাতে ডেকেছে। সেই থেকে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
অনুসন্ধানে খোজ মেলে দিপুর লেটেস্ট সোপ নামের একটি কৃষিজযন্ত্রপাতির প্রতিষ্ঠানের। সেই প্রতিষ্ঠানের নামেও এক মাসে অনলাইন জুয়ায় ৪৪ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
তবে দিপু ও সাজেদুর করোনার সময় সাহায্যের কথা স্বীকার করেন। তবে সাইফুলের নামে সীম তোলার কথা স্বীকার করেন। বলেন, চিঠি পাওয়ার পর আমরা ঢাকার সিআইডির সাথে দেখা করেছি। সাজেদুরের নামে একটি সীম আছে। সে সীমটি খুলনায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সেই সীমের মালিক সাজেদুররের না বলে দাবি করেন। বলেন সিআইডিকে সব তথ্য দিয়েছি। আমরা কোন সীম তুলিনি বলে দাবি করেন।
এলকার জনপ্রতিনিধি আরিফ হোসেন বলেন, সবার মাঝে একটি আতংক বিরাজ করছে। আমার কাছে এসে থানায় নিয়ে আসতে বলে। আমি তাদের সাথে এসেছি। কোনভাবেই যেন অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের কাছে গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতারিত না হয় সেই জন্য থানায় আসা।
মুজিবনগর থানার ভ্রারপ্রাপ্ত কমকতা (ওসি) মেহেদি রাসেল জানান, ভূক্তভূগীরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা থেকে ৩১ জন অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যহত আছে।
